শান্তিগঞ্জে জুমার নামাজে সেজদারত অবস্থায় যুবককে ছুরিকাঘাত: ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে রক্তাক্ত বাবা
স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে সেজদারত অবস্থায় নাহিদ ইসলাম (২৪) নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে প্রতিপক্ষ। এ সময় হামলাকারীদের হাত থেকে সন্তানকে বাঁচাতে গেলে তাঁর বাবা সাইফুর রহমানও (৫৫) গুরুতর আহত হন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে এ বর্বরোচিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। আহত নাহিদ ইসলাম ও তাঁর বাবা সাইফুর রহমান বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত নাহিদের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক হিরু অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার দুপুরে বীরগাঁও পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে বাবা ও ছেলে একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজের একপর্যায়ে মুসল্লিরা যখন সেজদায় যান, ঠিক তখন ৭-৮ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা রামদা ও ধারালো ছুরি দিয়ে নাহিদের পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে সাইফুর রহমানও জখম হন। হিরুর দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে রেজাউল, আফজল, জুনেল, সেবির, সুবাদসহ কয়েকজনকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা করিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত নাহিদ ইসলাম এবং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুবায়ের আহমেদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্য জুবায়ের ও নাহিদের মধ্যে পুরোনো শত্রুতা রয়েছে। অতীতে তাঁদের মধ্যে সংঘটিত মারামারির একটি ঘটনায় নাহিদ প্রায় দেড় থেকে দুই মাস কারাভোগ করে সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে বের হন। আজ জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে সেজদারত অবস্থায় তাঁর ওপর এ প্রতিহিংসামূলক হামলা চালানো হয়।
তবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জুবায়ের আহমেদ। তিনি দাবি করেন, “আমি ঘটনার সময় সেখানে ছিলাম না; একজন প্রকৌশলীর সঙ্গে উন্নয়নমূলক একটি সেতু পরিদর্শনে ছিলাম। কিছুদিন আগে এই নাহিদ আমাদের একজনকে মারাত্মকভাবে জখম করেছিল। জামিনে বের হয়ে সে এলাকায় বেপরোয়া চলাফেরা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো পক্ষ এ হামলা চালাতে পারে বলে আমি খবর পেয়েছি।”
শান্তিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান জানান, পবিত্র মসজিদের ভেতরে এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি; ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পেলেই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী