গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: অর্ধশতাধিক আটক, অনুমতি নেওয়ার দাবি জাসদের
স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে জাসদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আগেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছিল। দলটি সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ‘রিসিভড’ আবেদনের অনুলিপি প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো আবেদনের বিষয়ে তাঁরা অবগত নন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে গোপন বৈঠক করছেন—এমন অভিযোগ তুলে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা ভবনটি চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় এবং বিকেল ৪টার দিকে একে একে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে এনে প্রিজন ভ্যানে তুলে পল্টন মডেল থানায় নিয়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, জাসদ কার্যালয়ের ভেতর থেকে সরকারবিরোধী উসকানিমূলক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক বহিরাগত ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিলেন। আটককৃতদের পরিচয় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে জাসদ নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা আয়োজনে মাইক ব্যবহারের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ প্রশাসন সেই আবেদনপত্র গ্রহণ করে ‘রিসিভড’ সিল ও স্বাক্ষরও দিয়েছে। অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়ার পরও দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও পুলিশের অভিযান চালানোকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে দলটি।
এ বিষয়ে ডিএমপির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এমন কোনো আবেদনের বিষয়ে অবহিত নন বলে জানান। মতিঝিল বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পল্টন মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জাসদের প্রতিনিধি সভা বা নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই। কার্যালয়ে সন্দেহভাজন জমায়েত ও বিশৃঙ্খলার খবরের ভিত্তিতেই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী