সুন্দরী গো মানিলা’ আমার সৃষ্টি, অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব: জুয়েল আহমদ
সিলেট প্রতিনিধি: শাহ্ তোফাজ্জল হোসেন ভানডারী।
আঞ্চলিক জনপ্রিয় গান ‘সুন্দরী গো মানিলা আমার কথা হুনিলা’কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্কের বিষয়ে মুখ খুলেছেন প্রবীণ বাউল শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার মো. জুয়েল আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নিজের ফেসবুক আইডি ‘Juwel Ahmed’ থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গানটির ইতিহাস, গীতিকারত্ব এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
পোস্টে জুয়েল আহমদ জানান, তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও সিলেট বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী এবং দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে (সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়) সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি দাবি করেন, ‘সুন্দরী গো মানিলা আমার কথা হুনিলা’ কোনো সাম্প্রতিক সৃষ্টি নয়। ২০০৪ সালে লন্ডনে তিনি গানটি পরিবেশন করেছেন, যার ভিডিও এখনো ইউটিউবে রয়েছে। এছাড়া সিলেটের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সিরাজ উদ্দিনও প্রায় দুই যুগ আগে গানটি পরিবেশন করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুয়েল আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ওয়াহিদ আহমদ মাহতাব শাহ ফকিরের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে গানটি পরিবেশনের অনুমতি নেন। পরবর্তীতে গানটি নতুনভাবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। সম্প্রতি ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রচারিত জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তেও গানটির চারটি লাইন সম্প্রচারিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, গানটির মালিকানা নিয়ে চলমান বিতর্কে সিলেটের কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
তবে বর্তমানে কিছু ব্যক্তি গানটি নিজেদের বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকর্মকে ‘চৌর্যবৃত্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন এবং মানহানিকর মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন জুয়েল আহমদ। সত্যতা যাচাই বা প্রমাণ উপস্থাপনের আগেই এ ধরনের অভিযোগ তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি বলেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করেন না এবং সবসময় সত্য, প্রমাণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। গানের প্রকৃত ইতিহাস ও গীতিকারত্বের বিষয়টি তথ্য-প্রমাণ এবং প্রয়োজনে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
একই সঙ্গে সম্মান, সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা অপপ্রচার, মানহানিকর বক্তব্য ও সাইবার বুলিং অব্যাহত থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান এই প্রবীণ শিল্পী।
সবশেষে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আবেগ নয়, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ, কটূক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি থেকে বিরত থাকতে।