ওমান থেকে ফিরে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জগন্নাথপুরের যুবক সুজন নিখোঁজ: ৫ দিনেও মেলেনি সন্ধান, পরিবারে আহাজারি
স্টাফ রিপোর্টার:
দীর্ঘ তিন বছর প্রবাসজীবনের ক্লান্তি শেষে মাতৃভূমির মাটিতে পা রেখেছিলেন ওমানপ্রবাসী যুবক এমডি সুজন (৩০)। কিন্তু রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। ঘটনার গত পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় চরম উৎকণ্ঠা ও গভীর আশঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ এমডি সুজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের বাসিন্দা। স্বজনরা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর প্রবাসে কাটানোর পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ওমানের রাজধানী মাসকাট থেকে ওমান এয়ারের ‘WY-497’ নম্বর ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন সুজন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁকে রিসিভ করতে এবং গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে পরিবারের সদস্যরা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে ফ্লাইট অবতরণ এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টার্মিনাল থেকে সুজন বের না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। পরবর্তীতে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ও সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুজন সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবেই টার্মিনাল ভবন থেকে বাইরের সড়কে বের হয়ে গেছেন। কিন্তু টার্মিনাল চত্বর পার হওয়ার পর থেকেই তাঁর আর কোনো হদিস মিলছে না। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বিদেশি সিম সক্রিয় থাকায় এবং তাতে স্থানীয় নেটওয়ার্ক সংযোগ না পাওয়ায় সরাসরি যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার পর থেকে স্বজনরা ঢাকার সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকা, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন এবং দূরদূরান্তের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো খোঁজ পাননি।
নিখোঁজ সুজনের ভগ্নিপতি পলাশ মিয়া হতাশা প্রকাশ করে জানান, “সিসিটিভি ফুটেজে সুজনকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেখা গেছে। অথচ বাইরে আসার পর সে কীভাবে এবং কোন দিকে হারিয়ে গেল, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কিছুদিন ধরে তাঁর মানসিক কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। দেশে ফেরার জন্য সে খুব ব্যাকুল হয়ে পড়ায় ওমানে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা তাঁকে নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্যই বিমানবন্দরে এসে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের স্বার্থে আমরা জগন্নাথপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এদিকে নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান না পেয়ে তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের কান্না থামছে না। কোনো হৃদয়বান বা সচেতন নাগরিক যদি এমডি সুজনের (৩০) সন্ধান পেয়ে থাকেন বা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানা:
মোবাইল: ০১৭৩৪৭৯৬২৩০
এস এম সোহাগ ফরাজী