গোরস্থান থেকে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ তুলে দরবারে দাফনের চেষ্টা: এলাকায় চরম উত্তেজনা, দেহাবশেষ প্রশাসনের হেফাজতে
স্টাফ রিপোর্ট / অপরাধ ডেস্ক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর শামীম জাহাঙ্গীরের মরদেহ দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর রাতের আঁধারে গোরস্থানের কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ তুলে নিয়ে নিজ দরবার প্রাঙ্গণে পুনরায় সমাধিস্থ করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি শনিবার সকালে জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহাবশেষ নিজেদের হেফাজতে নেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
কবর খুঁড়ে দরবারে নিয়ে যাওয়া হয় মরদেহ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে ফিলিপনগর পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের কবর খুঁড়ে তাঁর দেহাবশেষ তুলে নেয় ভক্ত ও অনুসারীরা। এরপর তা গোরস্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে পীরের নিজস্ব দরবার প্রাঙ্গণে নতুন খোঁড়া একটি কবরে বাঁশের চাটাই ও মাটি চাপা দিয়ে দাফনের চেষ্টা চালানো হয়।
নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি গোরস্থানে গিয়ে দেখেন ভাইয়ের কবরটি খোলা এবং ভেতর থেকে মরদেহ গায়েব। পরবর্তীতে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায় সেখানে নতুন একটি কবর খুঁড়ে বাঁশের খাবাচি দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় রাখা হয়েছে।
প্রশাসন ও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
খবর পেয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, “নিহতের ভাইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গোরস্থানে গিয়ে কবর খোঁড়া অবস্থায় পাওয়ার পর দরবারে গিয়ে দেহাবশেষের আলামত পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে কোনো অনুসারীকে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দরবার থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুনরায় স্থানীয় গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ এবং দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভক্তরা রাতের আঁধারে দেহাবশেষ তুলে আস্তানায় নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে দেহাবশেষ প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেক্ষাপট ও পূর্বের ঘটনা
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননা ও বিকৃতির অভিযোগ এনে দৌলতপুরের ফিলিপনগরে শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পীর শামীম জাহাঙ্গীর। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় দুই শতজনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
দৈনিক জীবনযাত্রা