বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের ভেতরে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নাক-কানে রক্তের দাগ
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সিলেট নগরীর মিরের ময়দানে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্র’-এর কমপ্লেক্সের ভেতর থেকে দেলোয়ার নামের এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে বেতারের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়।
নিহত দেলোয়ার সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তাঁর পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও বেতার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেতার কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীরের ভেতরের অংশে দেয়াল ঘেঁষে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন বেতারের কর্মচারীরা। বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক সুরতহাল কার্যক্রম শুরু করে।
রাত পৌনে ৯টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং আলামত সংগ্রহের কাজ করছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, বাংলাদেশ বেতার কমপ্লেক্সের ভেতরের দেয়ালে হেলান দেওয়া অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহের নাক ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণের চিহ্ন দেখা গেছে।
ওসি আরও বলেন, নিহতের পরিচয় দেলোয়ার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তাঁর স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং তিনি কীভাবে সুরক্ষিত বেতার ভবনের ভেতরের অংশে প্রবেশ করলেন—তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বেতার, সিলেট কেন্দ্রের পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তারিক গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক সুরতহালের কাজ করছে। নিহত ব্যক্তি কোনোভাবেই বেতারের কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। তিনি কীভাবে ভেতরে ঢুকলেন, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী