পদ্মা কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে রাজশাহীতে উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের রাজশাহী ছাড়া করার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। এর বিপরীতে কঠোর পাল্টা জবাব দিয়েছে মহানগর ছাত্রদলও। দুই ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন মুখোমুখি অবস্থানে পুরো রাজশাহী মহানগরের ছাত্ররাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পদ্মা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে। কলেজটিতে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম উপলক্ষে সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে একটি ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করে ছাত্রশিবির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেই হেল্প ডেস্কের ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই সংগঠনের অন্তত ৫ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগর শাখা। মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোনাদিঘীর মোড় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ইমরান নাজির তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ছাত্রদলের বন্ধুদের বলছি, আমরা ধৈর্যের সীমান্তের একেবারে শেষ পর্যায়ে আছি। যদি আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়, তবে প্রত্যেকটা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কুত্তার মতো পিটিয়ে রাজশাহী ছাড়া করব।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ছাত্রশিবির কোনো ভেসে আসা সংগঠন নয়, ছাত্রশিবির রাজপথে জীবন দেওয়া সংগঠন। আমরা জীবন দেবো, কিন্তু আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর নতুন করে হাত তোলা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।” বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
শিবির সভাপতির এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর এর কড়া পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন।
পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লিমন বলেন, “ইমরান নাজিরকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলতে চাই, আপনার বাড়ি কুমিল্লায়; আপনি পিআর পদ্ধতিতে উড়ে এসে রাজশাহীর নেতা হয়েছেন। অথচ এই রাজশাহীর মাটিতে আমাদের নাড়ি পোঁতা। কার সঙ্গে লাগতে এসেছেন, সময়মতো টের পাবেন। ছাত্রদল যদি একবার রাজপথে চূড়ান্তভাবে নামে, তবে রাজশাহীর রাজপথে ওই রাজাকারের সংগঠনের দাঁড়ানোর মতো বিন্দুমাত্র জায়গা থাকবে না।”
দুই ছাত্র সংগঠনের এমন চরম আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশপাশের রাজনৈতিক এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী