ভারতে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন: সিলেট সীমান্তে নারীসহ ৭ জনকে আটক করল পুলিশ
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
ভারতে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির মিথ্যা প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টাকালে দুই নারীসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি বড়ইতলা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করে তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল।
পুলিশ ও আটক ব্যক্তিদের সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র নারীদের ভারতে মাসে ৫০ হাজার টাকা এবং তরুণদের ৩৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ঢাকা থেকে সিলেটে নিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় মিজান নামের এক মানবপাচারকারী দালালের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী নলজুরি গ্রামের একটি বাড়িতে তাঁদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তাঁদের ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রস্তুতির বিষয়টি গোপন সূত্রে জানতে পারে পুলিশ। তথ্যের ভিত্তিতে তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির একটি চৌকস দল নলজুরি বড়ইতলা এলাকার ওই বাড়িতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল দালাল মিজান কৌশলে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বাড়ি খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে দালালরা তাঁদের উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করেছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে সক্রিয় এই মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতা মিজানসহ পলাতক জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের কঠোর অভিযান চলমান রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী