সিলেটে সিএনজিতে তুলে নিয়ে নারীকে গণধর্ষণ: ঢাকা থেকে মূল হোতা সিএনজিচালক গ্রেপ্তার
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সিলেট নগরীর চণ্ডীপুল এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে এক নারীকে অপহরণের পর বিশ্বনাথে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত চালক মো. সাইদুর রহমানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাইদুর রহমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হায়াতর গাঁও এলাকার হাসিব আলীর ছেলে।
এসআরবি-৯ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকা থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক যাওয়ার উদ্দেশে সাইদুর রহমানের সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন ওই নারী যাত্রী। পথিমধ্যে একটি স্থানীয় বাজারে গাড়ি থামিয়ে কিছু কেনাকাটা করেন চালক সাইদুর। পরে সেই মালামাল নিজের বাড়িতে নামিয়ে রেখে ছাতক পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ওই নারীকে পথ পরিবর্তন করে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর এলাকার একটি নির্জন বাড়ির সামনে নিয়ে যান।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই নির্জন বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা সাইদুরের সহযোগীরা বের হয়ে আসে। তারা অস্ত্রের মুখে ওই নারীকে জোরপূর্বক একটি পরিত্যক্ত ঘরে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে সাইদুর ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগী নারীকে আটকে রেখে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালায়। ধর্ষণের পর নারীর কাছে থাকা নগদ অর্থ, ব্যবহৃত স্মার্টফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী কোনোমতে উদ্ধার পেয়ে নিজ এলাকায় ফিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং দণ্ডবিধির ছিনতাই ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ছায়া তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এসআরবি-৯।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পাশবিক এই ঘটনার পর থেকেই সাইদুর রহমান ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে পলাতক জীবনযাপন করছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে ধোলাইপাড়ের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এসআরবি-৯ এর চৌকস দল।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চালক সাইদুর রহমান ওই নারীকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় দলবদ্ধ ধর্ষণের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বর্বর ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী