১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ: শাটারিং দাবি ঠিকাদারের, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট:
১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এমন একটি নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, রডের বদলে নয়, বরং স্ল্যাবের তলদেশের শাটারিং হিসেবেই কাঠ বা বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুর কাঠামোর নির্দিষ্ট অংশে ঢালাইয়ের ফাঁকে বাঁশের উপস্থিতি স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিপুল অর্থ বরাদ্দের এই মেগাপ্রকল্পে রডের ব্যবহার কমিয়ে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ সারা হয়েছে, যা সেতুর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং জনসাধারণের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।
তবে অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। তাঁর দাবি, সেতুর ওই অংশে প্রায় চার ইঞ্চি পুরু কংক্রিট ঢালাই রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী স্ল্যাবের নিচে যে শাটারিং দেওয়া হয়, ঢালাই শেষে ভেতরের সেই শাটারিং আর কোনোভাবেই অপসারণ করা সম্ভব হয় না এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা এমনিতেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই কারিগরি সুবিধার্থে ওই শাটারিং কাঠ অথবা বাঁশ দিয়েই করা হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত নিয়মে রডের খাঁচা বেঁধে ও পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর কংক্রিটের ঢালাই সম্পন্ন করা হয়। ঠিকাদারের দাবি, শাটারিংয়ের জন্য বাঁশ ব্যবহারের সেই স্বাভাবিক দৃশ্যটিকেই স্থানীয় কয়েকজন অসদুপায়ে ভিডিও করে ‘রডের বদলে বাঁশ’ বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।
এদিকে ঠিকাদারের এমন ব্যাখ্যার পরও সাধারণ মানুষের সংশয় দূর হচ্ছে না। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ১০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ অবকাঠামোর প্রতিটি অংশের মান ও স্থায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জনগণের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার। সেতুর ওই অংশে মূল নকশা (ডিজাইন) ও অনুমোদিত প্রকৌশলগত নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীদের সরেজমিন নিরপেক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে।
এখন স্থানীয়দের অনিয়মের অভিযোগ এবং ঠিকাদারের কারিগরি যুক্তি—উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন ও সুষ্ঠু তদন্তের ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী।
এস এম সোহাগ ফরাজী