নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ: ‘৯৯৯’-এ কলের পর শিক্ষক রফিকুল গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার / নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১৭ বছর বয়সী এক আবাসিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিকভাবে বলাৎকারের অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরে স্থানীয় এক বাসিন্দার তাৎক্ষণিক ফোনকলের পরিপ্রেক্ষিতে ফতুল্লা থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে ফতুল্লার মুসলিম নগর এলাকার ‘তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসা’ থেকে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পটভূমি ও দীর্ঘদিনের নিপীড়ন
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আহাদ (১৭) হাফেজি পাসের পর কোরআন ভালোভাবে মুখস্থ (হিফজ সমাপ্ত) করার উদ্দেশ্যে এক বছর আগে মুসলিম নগরের তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম গত এক বছর ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রকে নিয়মিত বলাৎকার করে আসছিলেন।
সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবারও শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন খবর পেয়ে মা এসে চিকিৎসার কথা বলে সন্তানকে বাসায় নিয়ে যান। সেখানে আহাদ শিক্ষকের এমন পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলে।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও ৯৯৯-এ সহায়তা
ঘটনা জানার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদ্রাসা ঘেরাও করেন। এলাকাবাসীর তোপের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেন। উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে আটকে রাখলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এক সচেতন নাগরিক ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ কল দিয়ে দ্রুত পুলিশি সহায়তার অনুরোধ জানান। ৯৯৯-এর কলটেকার কনস্টেবল আল আমিন কলটি গ্রহণ করেন এবং ডিসপ্যাচার এএসআই তরুণ কুমার আচার্য্য তাৎক্ষণিকভাবে ফতুল্লা থানাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের
খবর পাওয়া মাত্রই ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রফিকুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার বরুনদা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি বর্তমানে ফতুল্লার মুসলিম নগর তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।