গৃহবধূর ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল: মুন্সিগঞ্জে মাদরাসা থেকে ইমাম গ্রেপ্তার, মোবাইল জব্দ
স্টাফ রিপোর্টার ;
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের স্পর্শকাতর ভিডিও গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল রোববার রাতে জেলার শ্রীনগর উপজেলার একটি মাদরাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ব্ল্যাকমেইলে ব্যবহৃত তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নূর আলম শেখ (৩২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেলগাতী গ্রামের মরহুম ইয়াকুব আলী শেখের ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং চার সন্তানের জনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাইভেট পড়ানোর সূত্রে ঘনিষ্ঠতা ও ভিডিও ধারণ:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নূর আলম শেখ গত প্রায় ১৮ মাস ধরে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকার একটি জামে মসজিদে নিয়মিত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি এলাকার একটি শিশুর বাড়িতে গিয়ে ধর্মীয় ও কোরআন শিক্ষা দিতেন। সেই সুবাদে শিশুটির মায়ের (গৃহবধূ) সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও একপর্যায়ে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নূর আলম সুকৌশলে ওই গৃহবধূর ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু স্পর্শকাতর ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে গোপনে ধারণ করে রাখেন।
অব্যাহতি পাওয়ার পরও পরিবারকে হুমকি:
পুলিশ আরও জানায়, প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি নূর আলমকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেয়। চাকরি হারিয়ে তিনি বালিগাঁও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে এলাকা ছাড়লেও তাঁর অনৈতিক তৎপরতা বন্ধ হয়নি; তিনি দূর থেকে গৃহবধূকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ধারণ করা ওই আপত্তিকর ভিডিওটি অনলাইনে গৃহবধূর পরিবারের এক সদস্যের কাছে পাঠিয়ে দেন নূর আলম। এরপর ভিডিওটি মুছে ফেলার শর্তে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গৃহবধূকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য অনবরত চাপ ও কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। দেখা না করলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার সরাসরি হুমকিও দেন তিনি।
ডিবির অভিযান ও মামলা প্রক্রিয়া:
চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের শরণাপন্ন হলে বিষয়টিতে তাৎক্ষণিক ছায়াতদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অর্জুন কুমার দাশ জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে রোববার দিবাগত রাতে শ্রীনগরের একটি মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নূর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নূর আলম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট টঙ্গিবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী