বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্টাফ রিপোর্টার / জাতীয় ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের (জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থী) মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ইজতেমা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের (সাদপন্থী) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাদপন্থী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বিশ্ব ইজতেমার সম্ভাব্য তারিখ ও স্থান বিতর্ক
ইজতেমার তারিখ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই পক্ষের মতামত ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে আগামী বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
টঙ্গীর ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “উভয় পক্ষই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সাদপন্থীদের টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা না করার একটি চুক্তি থাকলেও আজকের বৈঠকে সাদপন্থী প্রতিনিধিরা সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাদের অংশগ্রহণের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁরা দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের পূর্বে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি বিরতি দিয়ে টঙ্গী ময়দানে আলাদাভাবে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।” আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিষয়টি দেশের বিদ্যমান ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের অপরাধ পরিস্থিতি এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের জেলা ও কেন্দ্রভিত্তিক সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ প্রধান প্রধান অপরাধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক তৎপরতার উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও মালামাল উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাহিনীর ভেতরের গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।