সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে বক্তব্যের প্রতিবাদে কওমি ছাত্র ঐক্যের বিক্ষোভ: হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমার দাবি, এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের হুঁশিয়ারি
স্টাইল রিপোর্ট : জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রকাশ্যে ও সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমা না চাইলে শনিবার শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির নির্ধারিত কর্মসূচি বয়কট ও প্রতিহত করা হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। কয়েক শত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশের মূল বক্তব্য
সমাবেশে বক্তারা সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে সামান্য কিছু হলেই যেভাবে হুজুর ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে দোষারোপ করা হতো, বর্তমান সময়েও সেই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি গ্রহণযোগ্য নয়।”
তাঁরা উল্লেখ করেন, পুলিশ লাইনে উচ্চশব্দে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে মিথ্যাচার যেমন অনভিপ্রেত, তেমনি নৌকাবাইচ বন্ধের ইস্যুতে সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ যেভাবে তাওহিদি জনতাকে একতরফা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, তা অন্যায় ও বিদ্বেষমূলক।
৩ দফা দাবি ও বয়কটের ডাক
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহর উদ্দেশ্যে তিন দফা দাবি ঘোষণা করা হয়:
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর সামনে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
দাবি না মানলে শনিবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠেয় এনসিপির সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি কঠোরভাবে বয়কট ও প্রতিহত করা হবে।
হেফাজতের সংহতি ও উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
কওমি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী নিজের ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ত্বলাবা আজিজদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করলাম। হাসনাত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি বয়কট।’
এ ঘোষণার পর ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির কর্মসূচি বর্জন ও প্রতিহতের আহ্বানে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।
দৈনিক জীবনযাত্রা