রূপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ: প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে সাত দিন ধরে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার পর প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার বরপা শান্তিনগর এলাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
আলমগীর হোসেন: মামলার প্রধান আসামি, বরপা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহেদ আলীর ছেলে।
রুনা / রুপা
পাপী
ঘটনার বিবরণ ও মামলা
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর এলাকার ওই তরুণীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলমগীর হোসেনের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত ১৫ আগস্ট তরুণীকে মুন্সিগঞ্জ থেকে রূপগঞ্জে ডেকে আনেন আলমগীর। এরপর তাঁকে বরপা শান্তিনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আলমগীর তাঁর সহযোগী শাওন, শুভ, মোস্তফা ও জীবনকে সঙ্গে নিয়ে মাদক সেবন করেন এবং টানা সাত দিন ধরে ওই তরুণীর ওপর সংঘবদ্ধ নির্যাতন ও ধর্ষণ চালান।
ভুক্তভোগী জানান, ঘটনাটি প্রকাশ করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। একপর্যায়ে ভাড়া বাসার মালিক বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করলে অভিযুক্ত সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
মামলা ও পুলিশি পদক্ষেপ
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আলমগীর, শাওন, শুভ, মোস্তফা, জীবন, রুনা ও পাপীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ‘গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহদী ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।