মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ, আবাসন খাতের উন্নয়নে নানা প্রস্তাবনা
বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক জীবনযাত্রা:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন ‘রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (রিহ্যাব)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় আবাসন শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা
সাক্ষাৎকালে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়ণের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি/DAP) বাস্তবায়নের ফলে সৃষ্ট বাস্তব সমস্যা এবং আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রিহ্যাবের প্রতিনিধিদল সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি (Registration Fee) যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি আবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সরকারি সেবাসমূহকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর তারা জোর দাবি জানান। এছাড়া রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা এবং পরিকল্পিত উল্লম্ব (Vertical) নগরায়ণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব পেশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: স্বচ্ছ, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত নগরায়ণ
রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনযোগসহকারে শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন,
“দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতের গতিশীলতা ও বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কেউ যেন আবাসন খাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না পায়, সে লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং সামনে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
কৃষিজমি রক্ষা ও সমতাভিত্তিক নগরায়ণ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নগরায়ণ শুধু রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক আটকে রাখলে চলবে না; দেশের অন্যান্য জেলা ও অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কৃষিজমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।