শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বিক্রির অর্ধেক অর্থ পাবেন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ট্রাইব্যুনালের চিঠি
আদালত প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ থেকে ১২ জন শীর্ষ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির অর্ধেক অর্থ শহীদ পরিবারের মাঝে বণ্টন করা হবে।
এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রায়ের ৩০ দিনেও আপিল করেননি আসামিরা:
প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ পরিবারের সহায়তায় বিতরণের সুস্পষ্ট আইনি নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “আইন অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করার জন্য নির্ধারিত ৩০ দিন সময়সীমা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো আপিল আবেদন দাখিল করেননি। ফলে আইনগতভাবে তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলেই নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে।”
সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রির আশঙ্কায় দ্রুত চিঠি:
পলাতক আসামিদের স্থাবর সম্পত্তি বেদখল বা গোপনে বিক্রির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, “আসামিরা দেশে ও বিদেশে তাঁদের বিভিন্ন সম্পত্তি বেনামে বিক্রি বা হস্তান্তর করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাতে পারেন—এমন জোরালো শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত সকল পলাতক আসামির দৃশ্যমান ও গোপন যাবতীয় সম্পত্তি অবিলম্বে সরকারি হেফাজতে গ্রহণ, তালিকা প্রণয়ন এবং তা বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আজই (৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি ইস্যু করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো এসব সম্পত্তি হেফাজতে নেওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিলাম বা বিক্রির ব্যবস্থা করবে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মোট অর্থের অর্ধেক জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিলে হস্তান্তর করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা