ওসমানীনগরে প্রেমের জেরে দোকানে বসে থাকা যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত: চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, ঘাতক বাবা পলাতক
সিলেট প্রতিনিধি (শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী):
সিলেটের ওসমানীনগরে দূরসম্পর্কের ভাতিজির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে সাইফুর রহমান (২৪) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গত সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের শেরপুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন একটি দোকানে এ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাইফুর রহমান সাদিপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের করম উদ্দিনের ছেলে।
প্রেমের জেরে পারিবারিক বিরোধ ও সালিশ:
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত সাইফুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দূরসম্পর্কের ফুফাতো ভাই পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সেজু আহমদের তরুণী মেয়ের (১৯) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। পারিবারিকভাবে সম্পর্কের দূরবর্তী সূত্রে মেয়েটি তাঁর ভাতিজি হওয়ায় বিষয়টি মেয়ের পরিবার কোনোভাবেই মেনে নেয়নি।
এরই জেরে চার মাস আগে ওই তরুণীকে নিয়ে পালিয়ে যান সাইফুর। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও স্থানীয় আত্মীয়স্বজনদের হস্তক্ষেপে সামাজিক সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়েটিকে তাঁর বাবার জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো প্রকার বিরোধ বা শত্রুতা না রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ অঙ্গীকার করে।
ফোন পেয়ে দোকানে যান সাইফুর, অতর্কিত হামলা:
নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে রাতের খাবার শেষ করে একটি অপরিচিত ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে শেরপুর টোলপ্লাজা এলাকায় যান সাইফুর। সেখানে স্থানীয় লুৎফুর রহমানের মালিকানাধীন ‘আফাজ ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এ বসে গল্প করছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাইফুর দোকানে গল্প করার সময় হঠাৎ করেই ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে উপস্থিত হন মেয়ের বাবা সেজু আহমদ। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে অতর্কিতভাবে সাইফুরের ওপর আক্রমণ চালান এবং বুক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মুহূর্তের মধ্যে দৌড়ে পালিয়ে যান।
রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফুর মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে বাজারের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের আহাজারি ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাইফুরের ভগ্নিপতি সরাজ মিয়া বলেন, “আমার শ্যালকের সঙ্গে সেজু মিয়ার মেয়ের সম্পর্ক ছিল এবং চার মাস আগে তাদের মধ্যে একটি ঘটনা ঘটেছিল। পরে এলাকার মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় মেয়েকে বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়। সেই পুরনো ক্ষোভ মনে পুষে রেখে এভাবে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে আমার শ্যালককে হত্যা করা হলো। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত সেজু আহমদকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী