নির্বাচনী হলফনামায় মিথ্যা তথ্য ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ: সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আবেদন
নির্বাচন প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত হলফনামায় আয়ের উৎস, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও বিপুল অঙ্কের সম্পদ গোপনের গুরুতর অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বরাবর এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে:
নির্বাচন কমিশনে দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় নির্বাচন কমিশনের বাধ্যতামূলক বিধিমোতাবেক জমা দেওয়া হলফনামায় মুফতি আমির হামজা তাঁর প্রকৃত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সঠিক বিবরণ উপস্থাপন করেননি।
হলফনামায় তিনি যেসব আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রদর্শন করেছেন, বাস্তবে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের মালিকানায় এর চেয়ে বহু গুণ বেশি মূল্যের স্থাবর জমি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য রয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, নির্বাচন কমিশন ও ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে সুপরিকল্পিতভাবে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বহু মূল্যবান সম্পদ বেআইনিভাবে গোপন রাখা হয়েছে।
আরপিও অনুযায়ী সদস্যপদ বাতিলের দাবি:
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হলফনামায় সত্য ও সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। হলফনামায় কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল, বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রদান করলে কিংবা সম্পদ গোপন করলে তাঁর প্রার্থিতা বা নির্বাচনের ফলাফল বাতিলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আমির হামজার দাখিলকৃত আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব ও ভূ-সম্পত্তির নথিপত্র পুনঃনিরীক্ষা করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ইসি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা অভিযোগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্ত আবেদনটি পর্যালোচনা করা হবে। কমিশনের বিধিবিধান অনুযায়ী অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের বিষয়ে আমির হামজার মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাঁর প্রতিনিধি জানান, হলফনামায় আইনের সব নিয়ম মেনেই আয় ও সম্পদের যাবতীয় তথ্য দাখিল করা হয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইমেজ ক্ষুণ্ন করতেই প্রতিপক্ষ মহল এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ সামনে আনছে।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী