রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা, কারাগারে পাঠানোর আদেশ
আদালত প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে মাকছুদার কাছ থেকে ঘটনা সংক্রান্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা আদালতে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মামলার এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে মামলা সংক্রান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা এ মামলার সামগ্রিক তদন্তকাজে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।’ শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ মামলায় মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। একই সঙ্গে মূল অভিযুক্ত সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে অবস্থিত ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিহত গৃহবধূর পিতা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের নাম উল্লেখ করে শেরেবাংলা নগর থানায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত জুন মাসে বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তাঁর বড় মেয়ে তরুণী মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের ওই বাসায় প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ও নজরুলের সঙ্গেই বসবাস করতেন মরিয়ম। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্য ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলে মরিয়মের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে নিহত তরুণী পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে এমপি নজরুল মুঠোফোনে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে যাওয়ার জন্য বলেন। সেখানে পৌঁছে বাবা মাসুম বিল্লাহ কক্ষের ভেতর মেয়ের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের সময় বিছানার ওপর থেকে মরিয়মের নিজের হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে জব্দ করে। আলোচিত এ মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী