কচুয়ায় দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সংশোধনের অনন্য সুযোগ দিলেন ওসি
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
কেবল মামলা কিংবা আইনি শাস্তিই নয়, অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে তিনি আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল ও হেলাল নামের দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা দায়ের হয় এবং প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁরা কারাভোগও করেন। তবে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।
এ পরিস্থিতিতে বিষয়টি নজরে আসার পর কচুয়া থানার ওসি আজিজুল ইসলাম প্রচলিত পুলিশি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁদের ভেতরকার নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় দুজনকে থানায় ডেকে আনা হয় এবং ভবিষ্যতে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার শর্তে তাঁদের তিন দিনের জন্য তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।
তিন দিনব্যাপী তাবলিগের চিল্লা সম্পন্ন করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জোহরের নামাজ আদায় শেষে জালাল ও হেলাল সরাসরি কচুয়া থানায় এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা বিগত দিনের ভুল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং অপরাধের অন্ধকার পথ ছেড়ে সৎ ও সুস্থ ধারার জীবনে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
থানায় দাঁড়িয়ে তাঁরা অঙ্গীকার করেন যে, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন, প্রতি মাসে নিয়ম করে তিন দিনের জন্য তাবলিগ জামাতে সময় কাটাবেন এবং ভবিষ্যতে নিজে কখনো মাদক সেবন বা কেনাবেচায় জড়াবেন না।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, “কেবল জেল-জরিমানা বা নিয়মিত মামলা ঠুকে দিয়ে অনেক সময় সমাজ থেকে মাদক শতভাগ নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ে। অপরাধীদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করা এবং তাদের মনে অপরাধবোধ তৈরি করে অনুশোচনার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তারা যেন সমাজের মূলধারায় ফিরে সৎ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই এই মানবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের এমন ইতিবাচক ও সংশোধনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। অনেকেই মনে করছেন, শাস্তির পাশাপাশি এই ধরনের নৈতিক সংস্কার উদ্যোগ মাদকাসক্ত ও কারবারিদের অন্ধকার জগত থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী