ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার: যেকোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত
আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ডেস্ক:
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরে আসার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য কারাবাস কিংবা ফাঁসিসহ যেকোনো প্রকার আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে (NDTV) টেলিফোনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে ফেরার ব্যাপারে তাঁর রাজনৈতিক সংকল্প শতভাগ অটুট ও সুস্পষ্ট হলেও ঠিক কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তিনি দেশে প্রবেশ করবেন, সেই বিস্তারিত রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর এটিই আন্তর্জাতিক কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে তাঁর সরাসরি বক্তব্য প্রদানের অন্যতম ঘটনা।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, তিনি কোনো সংঘাতময় পথে নয়, বরং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে এবং দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই স্বদেশে ফিরতে চান। তবে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই পরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত হবে—বর্তমানে সেটিই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশজুড়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্বিচার গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি শুরু থেকেই ওই পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ও আদালতের রায়কে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিশোধমূলক’ দাবি করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ও গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে সম্ভাব্য গ্রেফতার, দীর্ঘ কারাবাস বা অন্য যেকোনো আইনি পদক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে এবং তিনি সেই পরিণতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় বিচারিক প্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতেই তিনি ফিরে আসতে চান।
এদিকে ডিসেম্বরে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারতের বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা গোপন কূটনৈতিক চ্যানেল (ব্যাকচ্যানেল) মারফত যোগাযোগ হয়েছে কি না—সাক্ষাৎকারে এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান শেখ হাসিনা। তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রকার সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে অপারগতা জানান।
এস এম সোহাগ ফরাজী