রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের তাগিদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইউএনএইচসিআর প্রধানের বৈঠক
কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (UNHCR) বারহাম সালেহ (Barham Salih)।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়ে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী আবাসস্থলে অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ পরিবেশে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধি এবং এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ বিগত বহু বছর ধরে বিপুলসংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে এই মানবিক সংকটের একমাত্র ও চূড়ান্ত সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক অধিকারসহ নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান ও কার্যকর করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সমন্বিত ও জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জরুরি মানবিক ও খাদ্য সহায়তা চলমান রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারে তাঁদের নিজ বসতভিটায় টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ ১০ লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ সময় ধরে মানবিক আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেওয়ায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অসামান্য ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবং শরণার্থীদের মানবিক চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ইউএনএইচসিআর তার সার্বিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা অব্যাহত রাখবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী