পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক
জাতীয় প্রতিবেদক:
দেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ সচল রাখা এবং কারখানা ও জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পোশাক খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং এ খাতের সামগ্রিক অস্থিরতা মোকাবিলায় কার্যকর করণীয় নির্ধারণে আজ সন্ধ্যার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কয়েকজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে শ্রমমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও মজুরি বোর্ড গঠন:
এর আগে আজ দুপুর ১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে একান্ত সাক্ষাৎ করেন এবং মাঠপর্যায়ের শ্রমিক আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী।
সূত্র আরও জানায়, শ্রমিক অসন্তোষ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিরসন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিন আগেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। তবে নবগঠিত মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মনোনীত নাম চূড়ান্ত করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কিছুটা সময় লাগায় আনুষ্ঠানিক বোর্ড ঘোষণায় সামান্য বিলম্ব ঘটে।
দ্বিমুখী কৌশলে সরকার:
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মুখে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বর্তমানে সুনির্দিষ্ট দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। একদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি পর্যালোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক বোর্ড গঠন করা হয়েছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা, কারখানায় ভাঙচুর ঠেকানো এবং সার্বিক জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী