গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের দাবি: মিরপুরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মশাল মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে এবং রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় এ মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত কর’, ‘শ্রমিকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দাও’ এবং ‘শ্রমিক-ছাত্র ঐক্য গড়ে তোলো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি:
সমাবেশে ছাত্রজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা আজ পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বাঁচার মতো মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা রাজপথে নামলে তাঁদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক।
ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, মিরপুরে শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বহু শ্রমিককে আহত করেছে এবং অনেককে আটক করেছে। শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।
অবিলম্বে ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নের দাবি:
সমাবেশ থেকে ছাত্রনেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শ্রমিকদের দাবির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। একই সঙ্গে মিরপুরের ঘটনায় শ্রমিকদের ওপর আক্রমণকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আটক নিরীহ শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শ্রমিকদের পেটে লাথি মেরে এবং লাঠিপেটা করে কোনো শিল্প বা রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে ছাত্রসমাজ রাজপথে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আরও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।
দৈনিক জীবনযাত্রা
এস এম সোহাগ ফরাজী