সরকারি হাসপাতালের ১ কিমির মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়: সীমানায় চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত প্র্যাকটিসও নিষিদ্ধ করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সাধারণ রোগীদের হয়রানি বন্ধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কোনো হাসপাতালের ১ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি আর দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এই এক কিলোমিটার সীমানার ভেতরে অবস্থিত কোনো বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত রোগী দেখা (প্রাইভেট প্র্যাকটিস) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি কঠোর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছেন। দপ্তর থেকে চিঠি জারির সঙ্গে সঙ্গেই এ আদেশ সারা দেশে কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মাসে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সংস্কার নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণী উচ্চপর্যায়ের একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকেই মাঠপর্যায়ে এ কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়সহ বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও সরকারি সাধারণ হাসপাতালগুলোকে ঘিরে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও অনিবন্ধিত প্যাথলজিক্যাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় থাকে, যারা দূর-দূরান্ত থেকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হতদরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের ভুল বুঝিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। পাশাপাশি সরকারি কর্মঘণ্টার ভেতরে চিকিৎসকদের অনেকেই নিজের নির্ধারিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সংলগ্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখেন—এমন অভিযোগও ছিল দীর্ঘদিনের।
নতুন নির্দেশনায় যা বলা হয়েছে:
দেশের যেকোনো সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটার সীমানার ভেতরে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল বা রোগ নির্ণয় কেন্দ্র (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) স্থাপনের লাইসেন্স বা অনুমতি প্রদান করা হবে না।
বিদ্যমান উক্ত ১ কিলোমিটার সীমার মধ্যে অবস্থিত কোনো বেসরকারি চিকিৎসালয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত রোগী দেখতে বা কোনো প্রকার অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মতে, সরকারি এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সক্রিয় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। একই সঙ্গে সরকারি চিকিৎসকরা তাঁদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় কর্মস্থলে পূর্ণ সময় দিতে বাধ্য হবেন, যার সুফল পাবেন দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
এস এম সোহাগ ফরাজী