ময়মনসিংহে খালে ভাসমান ড্রাম থেকে নিখোঁজ জুয়েলারি কারিগরের মরদেহ উদ্ধার: শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত
ডেস্ক রিপোর্ট:
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি খালের পানিতে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। তিনি পেশায় একজন জুয়েলারি কারিগর ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর বেগুনবাড়ি স্লুইসগেট এলাকা সংলগ্ন খালের পানি থেকে ওই প্লাস্টিকের ড্রামভর্তি মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ময়মনসিংহ শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে শহরের একটি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে বেগুনবাড়ি স্লুইসগেটের কাছে খালের পানিতে একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রাম দীর্ঘক্ষণ ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানানো হলে দুপুরে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা ড্রামটি পানি থেকে তীরে তুলে এনে মুখ খুলে ভেতর থেকে হাত-পা মোড়ানো এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পান।
মরদেহটি তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতের পরিবার নিশ্চিত করলে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত নিরঞ্জনের মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্য কোনো নির্জন স্থানে তাঁকে কুপিয়ে ও নৃশংসভাবে হত্যা করার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে মরদেহটি কৌশলে ড্রামে ভরে খালের পানিতে ফেলে দেয়।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ নাকি স্বর্ণ ব্যবসার লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় জড়িত রয়েছে—তা উদ্ঘাটনে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জোর তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এস এম সোহাগ ফরাজী