পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের তাগিদ: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কূটনৈতিক প্রতিবেদক:
জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য উন্নত বিশ্বের কার্যকর সহযোগিতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৈশ্বিক ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে (Trusteeship Council Chamber) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বিশেষ আহ্বানে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ (Climate Action and the Just Transition) শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা প্রথম সারির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও উপকূলীয় দেশগুলোর দায় নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব—যেমন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বারবার প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের কোটি কোটি মানুষকে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে উন্নত বিশ্বকে তাঁদের অতীত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, “কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে জলবায়ু সংকট সমাধান হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, টেকসই পুনর্বাসন এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর (Just Energy Transition) নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোকে নিঃশর্তভাবে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল ছাড় করতে হবে।” জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
জাতিসংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী, শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন গতিশীল করা, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগকে ফলপ্রসূ করা এবং জলবায়ু সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানে আন্তর্জাতিক সমন্বিত রূপরেখা আরও জোরদার করা।
এস এম সোহাগ ফরাজী