জালালাবাদ গ্যাসে সফটওয়্যার জালিয়াতি করে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ: দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পেল দুদক
সিলেট প্রতিনিধি, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সিলেটে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডে (জেজিটিডিএসএল) গ্রাহকদের প্রায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটের একটি চৌকস এনফোর্সমেন্ট টিম নগরীর মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাসের প্রধান কার্যালয়ে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান শেষে দুদক সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গ্রাহকদের দেওয়া সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়েছি এবং সরেজমিন রেকর্ডপত্র যাচাইয়ে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি।”
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জালালাবাদ গ্যাসের বিপুল পরিমাণ রাজস্বের অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে এলেও প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে দায়ী দুই কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় না এনে উল্টো তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অনৈতিক সুপারিশ করা হয়েছিল। এমনকি দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোরালো অপচেষ্টা চলছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানকালে দুদকের কর্মকর্তারা গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠানটির হিসাব, আইটি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, গ্রাহকের জমা রসিদ ও ডিজিটাল বিলিং রেকর্ডপত্র জব্দ করেন। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদকের প্রাথমিক পর্যালোচনায় বেরিয়ে আসে, জালালাবাদ গ্যাসের হবিগঞ্জ জোনের আঞ্চলিক পরিচালক মো. ছয়ফুল আলম এবং ছাতক জোনের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আশফাকুর রহমান পরস্পরের যোগসাজশে এ আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটিয়েছেন। তাঁরা মূলত গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদে বিল ও অন্যান্য ফি গ্রহণ করে তা অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে লেজারে ভুয়া এন্ট্রি দিতেন। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধিত বিলের রসিদ ফেব্রিকেট বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করে তা নিজস্ব ইউজার আইডি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব সফটওয়্যারে পোস্টিং দেখাতেন। এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি ও জাল দলিলের মাধ্যমে তাঁরা প্রায় ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে দুদক।
দুদক কর্মকর্তা সুবেল আহমদ আরও জানান, জব্দ করা যাবতীয় তথ্য ও ডিজিটাল রেকর্ডপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও নিয়মিত মামলা দায়েরের অনুমোদনের জন্য কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী