ছাতকে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: ৩ নেতা আহত, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার, শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে এ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে ছাত্রশিবিরের তিনজন দায়িত্বশীল নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল ও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে স্বাগত জানাতে বুধবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে নবীনবরণ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ শাখা।
শিবির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তাঁরা যখন ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছিলেন, তখন ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসে কর্মসূচিতে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছাত্রদলের হামলায় ছাতক উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি নাইমুর রহমান ও গোবিন্দগঞ্জ কলেজ শাখার সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এ ছাড়া সংগঠনের সাবেক কলেজ সভাপতি আব্দুল আজিজকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই সহপাঠী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পর পুরো কলেজ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের নতুন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী