• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত: নকল-ভেজাল রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির তাগিদ লালপুরে ১০৬ পিস ইয়াবা, ২টি মোটরসাইকেল ও নগদ টাকাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার: “রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা, চীনা জাতীয় দিবস ও বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সংবর্ধনায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীতে জেলা ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যুক্তরাজ্যে নবনিযুক্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিতের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাৎ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বাণিজ্য বিনিয়োগে জোর বিশ্বনাথে নিখোঁজের তিন দিন পর সিলেটে মিলল মাদ্রাসাছাত্র আরিফ, স্বস্তিতে পরিবার গাজীপুর মহানগর দায়রা আদালতে আব্দুল্লাহ সিফাতের জামিন নামঞ্জুর: উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা পাটওয়ারীকে রিমান্ডে নিলেই আগুন ও ককটেল হামলার রহস্য বের হবে: রাশেদ খান

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত: নকল-ভেজাল রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির তাগিদ

Reporter Name / ১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত: নকল-ভেজাল রোধ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারির তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ বিষয়ে এক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত টিসিবি ভবনের সভাকক্ষে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রায় ৪৪ জন জ্যেষ্ঠ ও সংশ্লিষ্ট বিটের গণমাধ্যমকর্মী এই আয়োজনে অংশ নেন। কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ জহিরুল ইসলাম। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্মশালা আয়োজনের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য তুলে ধরেন অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণাগার) আতিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ভোক্তাদের আইনি অধিকার, অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। পরে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’ এবং এর প্রয়োগ নিয়ে একটি তথ্যবহুল পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা তুলে ধরেন সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম।

মাঠপর্যায়ে বাজার তদারকির বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান এবং ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বক্তব্য দেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, জনসচেতনতা যত বৃদ্ধি পাবে, বাজারে অপরাধ প্রবণতা তত কমবে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করতে নিয়মিত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কোনো বিকল্প নেই।

মুক্ত আলোচনা পর্বে সাংবাদিকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ই-কমার্স ও ডিজিটাল প্রতারণার প্রতিকার, মাঠপর্যায়ে লোকবল সংকট, ভোক্তা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং ঢাকার বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে মহাপরিচালকের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন উপস্থাপন করেন। মহাপরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রতিটি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট জবাব দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নিয়মিত বাজার তদারকির পাশাপাশি সরবরাহ চেইনে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি ভোক্তা সুরক্ষায় একটি জাতীয় টাস্কফোর্স (National Taskforce) গঠনের প্রস্তাব করেন। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল প্রস্তাবিত আইনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জালিয়াতি যুক্ত করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আইনের ৫২ ধারায় জরিমানার বিধান পর্যালোচনার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বারবার একই অপরাধে জড়ানো অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মহাপরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, “কেবল কঠোর আইন প্রয়োগ করেই ভোক্তা অধিকারের শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আইনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা ও নাগরিক মূল্যবোধের সামগ্রিক পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ দিনশেষে আমরা প্রত্যেকেই ভোক্তা।” বাজারে এখনো নকল ও ভেজাল পণ্যের উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এসব অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত অভিযানের আওতা আরও বাড়ানো হবে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা কর্মশালায় ফলপ্রসূ মতামতের জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান এবং একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় অধিদপ্তরের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) মোঃ মাসুম আরেফিনসহ প্রধান, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এস এম সোহাগ ফরাজী

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd