ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে ডেকে নৃত্যশিল্পীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’: বিয়ানীবাজার থেকে এসআরবি-৯ এর জালে পলাতক মুজাহিদ
সিলেট প্রতিনিধি / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচের পরিবেশনার কথা বলে ডেকে নিয়ে তিতাস নদীতে চলন্ত নৌকায় এক নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মুজাহিদকে (১৮) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয়
গ্রেফতার হওয়া আসামির নাম মুজাহিদ (১৮)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার বুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় ভুক্তভোগীকে
এসআরবি-৯ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পেজ থেকে নম্বর সংগ্রহ করে রাকিব নামের এক ব্যক্তি নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি সরাইলে নিজের বাড়িতে বিয়ের গায়ে হলুদ ও অনুষ্ঠানের কথা বলে দলটির সাথে ৯ হাজার টাকায় নাচের চুক্তি করেন।
সেই চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা থেকে ভুক্তভোগী নৃত্যশিল্পী, তাঁর এক নারী সহযোগী এবং সাইদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি সরাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁরা সরাইলের কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব তাঁদের রিসিভ করে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে শাহবাজপুর ব্রিজের নিচে নিয়ে যায়।
তিতাস নদীতে ইঞ্জিন বন্ধ করে পৈশাচিক নির্যাতন
নদীপথে দ্রুত বাড়িতে পৌঁছানোর কথা বলে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের একটি ইঞ্জিনচালিত দেশীয় নৌকায় তোলে। নৌকাটি তিতাস নদীর নির্জন মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে সুকৌশলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ইঞ্জিন বন্ধ করার পরপরই রাকিবের দুই সহযোগী দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক নৌকার ছাউনির ভেতরে ঢুকে ভুক্তভোগী তরুণীকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। এ সময় নৌকায় থাকা তাঁর সহযোগী ও সঙ্গীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
বর্বর এই নির্যাতনের পর গভীর সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর থানার গোকর্ণ এলাকার একটি নির্জন নদীর ঘাটে ভুক্তভোগী ও তাঁর সঙ্গীদের ফেলে রেখে অভিযুক্তরা দ্রুত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
মামলা দায়ের ও এসআরবির সাঁড়াশি অভিযান
নৃশংস এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আসামিদের গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯ সদর কোম্পানি (সিলেট) এবং এসআরবি-৯ সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)-এর একটি যৌথ দল মঙ্গলবার রাতে সিলেটের সীমান্তবর্তী বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মুজাহিদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মুজাহিদ সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। পরে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাঁকে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাকিবসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী