সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হচ্ছে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দোতলা সড়ক: বার্ষিক সাশ্রয় হবে প্রায় অর্ধকোটি টাকা, ২০২৬ সালের মধ্যেই উন্মুক্তের নির্দেশ
অবকাঠামো ও যোগাযোগ ডেস্ক / নারায়ণগঞ্জ: নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প ‘পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প’। প্রকল্পটির ৯.০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন উড়াল সড়কের দুই পাশের সমস্ত সড়কবাতি সম্পূর্ণ সৌর বিদ্যুতের (সোলার সিস্টেম) মাধ্যমে আলোকিত করার যুগান্তকারী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং প্রতি বছর রাষ্ট্রের প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকল্পের চলমান কাজের সার্বিক অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য তুলে ধরেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
পরিদর্শনকালে সেতু সচিবের সাথে উপস্থিত ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, প্রকল্প পরিচালক মো. ওহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক (মওই) আঞ্জুমান আরা, উপপরিচালক (মওই) মো. মাসুদ রানা শিকদারসহ প্রকল্পের সাইট অফিসের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।
৫৮৬টি সড়কবাতি ও বিশাল বিদ্যুৎ সাশ্রয়
প্রকল্পের অগ্রগতি ও আধুনিক সোলার সিস্টেম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে সেতু সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, বর্তমান সরকারের পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী টেকসই নীতিমালার আলোকেই এই গ্রিন এনার্জি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী:
৯.০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়কের উভয় পাশে মোট ৫৮৬টি আধুনিক প্রযুক্তির সৌর সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে।
দৈনিক গড়ে ১০ ঘণ্টা বাতি প্রজ্বলন বিবেচনায় প্রতিদিন উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হবে ১ হাজার ১৭২ ইউনিট বিদ্যুৎ।
এর ফলে প্রতি মাসে ৪ লাখ ২ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং বাৎসরিক ভিত্তিতে সরকারের ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ২০৩ টাকার বিপুল বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে।
একই সাথে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বার্ষিক ৪ লাখ ২১ হাজার ৯২০ ইউনিট বিদ্যুতের সাশ্রয় নিশ্চিত হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী রূপান্তর ও ২০২৬ সালে চালুর তাগিদ
সেতু সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বে যোগাযোগ অবকাঠামো আজ বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দোতলা সড়কটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের অর্থনৈতিক করিডোর এবং যানজটমুক্ত যোগাযোগে এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটবে।”
পরিদর্শন শেষে তিনি কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সাথে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে প্রকল্প পরিচালককে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী।