সাংবাদিকদের স্বার্থ আদায়ে নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে: ডিআরইউতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী
জাতীয় ও গণমাধ্যম ডেস্ক / ঢাকা: সাংবাদিকদের মৌলিক স্বার্থ, অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সাংবাদিকদের নিজেদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সোচ্চার হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সাথে দায়িত্বশীলতার ভারসাম্য বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সংবাদমাধ্যমের মালিকদের কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে কি না—সেটিও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং
প্রেস সচিব স্পষ্ট করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যমের শতভাগ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতার অর্থ কখনোই স্বেচ্ছাচারিতা বা অপসাংবাদিকতা হতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের ভার সরকার কিংবা জনসাধারণের নয়; বরং আইন অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল আদালতের।
ডিজিটাল যুগে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার রোধে প্রতিটি গণমাধ্যম হাউজে নিজস্ব উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ বা তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রোপাগান্ডা থেকে সচেতন থাকতে হবে।
জাতিসংঘ অধিবেশন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ বিষয়ে সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বমঞ্চে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেবেন, যা দেশের মর্যাদা ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক ভঙ্গুরতা এবং বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে বর্তমান সরকার দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশকে একটি নিরাপদ ও বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের দাবি: সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ২ দিনের ছুটি
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ও নৈতিক নিরাপত্তার সংকট এখন তীব্র। অনেক গণমাধ্যমকর্মী নিয়মিত বেতন না পেয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। সাংবাদিকদের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনা না গেলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য বিশেষায়িত আবাসন, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুবিধা থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য কিছুই নেই। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও সংবিধানে এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তিনি সাংবাদিকতাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান। একই সাথে সাংবাদিকদের মানসিক ক্লান্তি দূর ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় অন্যান্য খাতের মতো সপ্তাহে দুই দিন ছুটির বিধান কার্যকরের দাবি তোলেন তিনি।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরীসহ শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
এস এম সোহাগ ফরাজী