পৈতৃক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কবিরহাটের সুরভির বিচার প্রার্থনা
বিশেষ প্রতিবেদন, নোয়াখালী | দৈনিক জীবনযাত্রা:
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পৈতৃক জায়গা-জমি বুঝে চাওয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর এবং তার সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী সালমা সুলতানা সুরভি নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিজের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সরাসরি সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সালমা সুলতানা সুরভি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ বসুরহাট এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের দয়ারামদি গ্রামে তার পৈতৃক ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্য জায়গায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।
প্রভাবশালীদের হুমকি ও দা-বঁটি নিয়ে হামলা
সালমা সুলতানা সুরভি অভিযোগ করে জানান, তার চাচাতো চাচা মামুন, ইয়াসিন এবং তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে তার প্রাপ্য জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, এই চক্রের পিছনে রয়েছেন তাজউদ্দিন নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজেকে বর্তমান বিএনপির নেতা বলে দাবি করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
সুরভি বলেন, “আমি যখনই আমার ন্যায্য জায়গা-জমি বুঝে পাওয়ার জন্য তাদের সাথে কথা বলতে যাই, তখনই মামুন, ইয়াসিন ও তাজউদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র (দা-বঁটি) নিয়ে আমাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারতে তেড়ে আসে। তারা আমার জায়গায় আমাকে তো বুঝিয়ে দিচ্ছেই না, উল্টো আমার অবুঝ বাচ্চাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচারের আকুল আবেদন
বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং লাঠিয়ালের জোরে একজন নারীর ওপর এই ধরনের অন্যায্য নির্যাতন ও শিশুর প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের সুশাসনের প্রতি আস্থা রেখে ভুক্তভোগী নারী সালমা সুলতানা সুরভি বলেন—
”আমি বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এই বর্বরোচিত অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই। একজন অসহায় মা ও নারী হিসেবে আমি যেন আমার বাবার রেখে যাওয়া জায়গা বুঝে পেতে পারি এবং আমার সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারি, সেজন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় বাটইয়া ইউনিয়নের সচেতন মহল এবং মানবাধিকার কর্মীরাও একজন নারীর ওপর এমন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা ও শিশুকে হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে এই ঘটনায় জড়িত ভূমিদস্যু মামুন, ইয়াসিন এবং সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত তাজউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী