বরিশালে ‘বিএনপিরা গেলি কই’ স্লোগানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: আটক ৭
স্টাফ রিপোর্টার: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, দৈনিক জীবনযাত্রা
বরিশাল:
বরিশাল মহানগরে সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে আকস্মিক এক ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলের পরপরই নগরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজের পর নগরীর বান্দ রোড সংলগ্ন কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামের সামনের সড়ক থেকে মিছিলটি বের করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একদল যুবক জুমার নামাজ শেষে সংগঠিতভাবে ‘দেশ বাঁচাতে প্রয়োজন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে সড়কে নেমে আসে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে তাদের ‘হৈ হৈ রৈ রৈ, বিএনপিরা গেলি কই’ এবং ‘ঘরে ঘরে বলে দে, শেখ হাসিনা আসতেছে’ সহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শোনা যায়।
মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের ছবি যুক্ত ছিল। স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করা হয়।
মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্রই কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দল ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি পাঁচজনকে আটক করে। পরবর্তীতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও মিছিলে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের সংবাদ পাওয়ামাত্র পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করে পাঁচজনকে আটক করে। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী