বিএনপি আন্দোলন করেছে আদর্শের জন্য, চাঁদাবাজি বা লুটপাটের জন্য নয়: সিরাতুন্নবী সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: বিএনপি বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে কেবল একটি দৃঢ় রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে; চাঁদাবাজি, লুটপাট, ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসা কিংবা সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করার জন্য নয় বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং দেশের আপামর জনতার মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে খানকায়ে দারুল হামদ কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলন’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরিতে আলেম-ওলামাদের ত্যাগ
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, “শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ থেকে শুরু করে মোদিবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত হেফাজতে ইসলাম ও আলেম সমাজের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল, তা ২০২৪-এর রক্তাক্ত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরিতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “মোদিবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেভাবে পাখির মতো গুলি করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তৌহিদি জনতাকে হত্যা করা হয়েছিল, তার একমাত্র কারণ ছিল তাঁরা একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার।”
এ সময় নিজের একজন পরামর্শদাতা পীর হামিদুর রহমানের স্মৃতি স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, মোদিবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তাঁর চার সন্তানকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার ও রক্তাক্ত করা হয়েছিল। গভীর রাতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি সাথে সাথে নির্যাতিতদের পাশে থাকার, সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
জাতীয় ঐক্য ও বিরোধী দলের প্রতি বার্তা
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার রয়েছে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো বিভেদ রাখা চলবে না। অনেকগুলো বাঁশের শলাকা একসঙ্গে বাঁধলে তা ভাঙা যায় না; বাংলাদেশও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিশ্বের কোনো শক্তিই আমাদের সাথে পাঙ্গা নিতে পারবে না।”
বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নির্বাচিত বিরোধী দলকে আমরা পূর্ণ সম্মান জানাই। তবে লংমার্চের নামে বিপুল জ্বালানি পুড়িয়ে পিকনিকের মতো পরিবেশ তৈরি করা জনগণের বোধগম্য নয়। লংমার্চ করেছিলেন মওলানা ভাসানী ও বেগম খালেদা জিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বিরোধী দল ক্ষমতার স্বাদ পেলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আসার পর এখন তারা সংসদে স্থায়ী কমিটির ভাগাভাগি নিয়ে ওয়াকআউট করছে, যা দুঃখজনক। হাদি হত্যার মতো বিচার দাবিতে ওয়াকআউট করলে মানুষ তা সমর্থন করত।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, গত ১২ জানুয়ারি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেছে। ধসে পড়া অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত পুনর্গঠনে সরকার ধৈর্য ও সংযমের সাথে কাজ করছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকার
ইশরাক হোসেন বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় ধর্ম-বর্ণ, পাহাড়ি-সমতল নির্বিশেষে আমরা সবাই এক ও অভিন্ন বাংলাদেশি। মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ বুকে ধারণ করে কোনো নাগরিকের প্রতি জুলুম-অবিচার না করে সবাইকে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ওপর আস্থা রেখে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। গত ছয় মাসে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সব কাজ শেষ না হলেও আগামী দিনগুলোতে আরও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করে দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও জাতীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী