‘ইসলামের নামে ঘৃণা ছড়ালে সমাজে অশান্তি বাড়বে’: শিবিরের সাবেক নেতাকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খানের কড়া প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক প্রতিবেদক / ঢাকা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক এক নেতাকে ইঙ্গিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী রাশেদ খান। তিনি মন্তব্য করেছেন, ইসলামের নামে যারা সমাজে ঘৃণা ছড়ায়, তাদের কার্যক্রম ইসলাম প্রতিষ্ঠার বদলে সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, নিজেকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ দাবি করা ওই ব্যক্তি সুন্নতি লেবাস বা টুপির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে না পেরে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ধর্মের ভুল চর্চা করছেন।
লেবাস ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
রাশেদ খান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী দাবি করা ভাইটি আজ টুপি খুলে কথা বলেছে! এটা অবশ্যই এক সেন্সে ভালো যে, সুন্নতি লেবাসের গুরুত্ব বোঝার মতো বোধহয় তার মধ্যে হয়েছে।”
অতীতে ওই নেতার প্রভাব খাটানোর প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “সে কি জিনিস, সেটা শেখ হাসিনারে জিজ্ঞেস করার সুযোগ থাকলে অবশ্যই করতাম! দুই ঘণ্টার মধ্যে সে ওসিকে সরিয়েছে, মেজরকে সরিয়েছে… শেখ হাসিনার চেয়ে বড় মাফিয়া না হলে কি এতো প্রভাব দেখিয়ে ওসি-মেজরদের সরানো যায়?”
আর্থিক টানাটানি ও বায়তুল মাল নিয়ে কটাক্ষ
জামায়াত-শিবিরের অভ্যন্তরীণ চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত আর্থিক টানাপোড়েনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তার কথা শুনে বুঝলাম, এখন মনে হয় লোকজন স্ত্রীর চিকিৎসা বাদ দিয়ে আর বায়তুল মালের চাঁদা দিচ্ছে না! তাই মাঝখানে নিজের নাম বাদ দিয়ে স্ত্রীর নামে ঋণ নিয়েছিল। হয়তো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে টাকা-পয়সার টান পড়েছে, নতুবা এতোটা বেপরোয়া বা ক্ষিপ্ত তো তার হওয়ার কথা না!”
ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে ঘৃণার রাজনীতির সমালোচনা
ইসলামের সুমহান বার্তার বিপরীতে ঘৃণার চর্চার বিষয়ে সতর্ক করে রাশেদ খান বলেন, “মাঝেমধ্যে প্রশ্ন জাগে, এসব মানুষেরা কি আসলে ইসলামের আদর্শ নাকি শুধুই ঘৃণার চর্চা করছে? জামায়াতের এসব ব্যক্তিদের ইসলাম কায়েম করার ভাষা যদি এমন হয়, তবে আমি বলবো, তাদের এই ধরনের রাজনীতি সমাজে শান্তির চেয়ে অশান্তিই বেশি বাড়াবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রকৃত দ্বীনি আদর্শের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উল্লেখ করেন, “সত্যি বলতে, কেউ যদি সহনশীলতা ও ন্যায়ের সাথে প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে, তিনি অবশ্যই সমর্থনযোগ্য। কিন্তু ইসলামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে যারা প্রতিনিয়ত সমাজে বিভেদ ও বিষবাষ্প ছড়ায়, তারা কখনো ইতিবাচক কোনো পরিবর্তনের ধারক হতে পারে না।”
এস এম সোহাগ ফরাজী