• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
মেহেন্দীগঞ্জে বোরকা পরে কৃষক কবিরের হাত-পায়ের র/গ ও গ/লা কে/টে হ/ত্য ইসলামের নামে ঘৃণা ছড়ালে সমাজে অশান্তি বাড়বে’: শিবিরের সাবেক নেতাকে ইঙ্গিত করে রাশেদ খানের কড়া প্রতিক্রিয়া মাদ্রাসায় শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা: শিক্ষককে অবরুদ্ধের পর পুলিশ হেফাজতে বাংলাদেশ থেকে কোনো হুজুরকে ঢুকতে দেওয়া হবে না’: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বনানীতে ফ্ল্যাটের চেয়েও কবরের দাম বেশি: বিশ্বনাথে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে নারী নির্যাতন মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার মসজিদ থেকে ৯ এমএম পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার: গণঅভ্যুত্থানে থানা থেকে লুট হওয়া অ/স্ত্র উদ্ধার শিল্পকলা একাডেমিতে আট বিভাগব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের পর্দা উঠল বাংলাদেশ বাউল সমিতির সাবেক কমিটির কাছে প্রায় ৫২ লাখ টাকা হিসাব পাওনা, দাবি বর্তমান সভাপতি আব্দুল হালিম সাগর চাঁন সিলেটে বাউল সমিতির অভিষেক নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’র প্রতিবাদ ও নিন্দা

মাদ্রাসায় শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা: শিক্ষককে অবরুদ্ধের পর পুলিশ হেফাজতে

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজীপুরে মাদ্রাসায় শাস্তি দেওয়ার নামে শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা: শিক্ষককে অবরুদ্ধের পর পুলিশ হেফাজতে, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার / শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী: গাজীপুরে একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় শাস্তির নামে এক শিশুশিক্ষার্থীর শরীরে আগুনে লাল করা লোহার খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাকরাউরী এলাকায় অবস্থিত ‘মাদরাসাতুল দারুত তাকওয়া’য় এ পাশবিক ঘটনা ঘটে।

শাস্তির নামে অমানবিক নির্যাতন

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) পড়া বা শৃঙ্খলাভঙ্গের শাস্তির অজুহাতে শিশুটিকে ডেকে নেন। একপর্যায়ে তিনি আগুনে পুড়িয়ে লাল করা একটি লোহার খুন্তি দিয়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে চেপে ধরে ছ্যাঁকা দেন। এতে শিশুটির ত্বক পুড়ে গিয়ে সে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে এবং গুরুতর আহত হয়।

ঘটনাটি মাদ্রাসার বাইরে মুন্সি মার্কেট ও সাকরাউরী এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসায় এসে জড়ো হন। এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও হেফাজত গ্রহণ

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা থেকে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

পূর্বেও শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

এলাকাবাসীর দাবি, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগেও তিনি এক ছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সে সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে আগের সেই ঘটনায় কোনো নিয়মিত মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গাছা থানার বক্তব্য ও আইনি প্রক্রিয়া

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আহত শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

 

এস এম সোহাগ ফরাজী

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd