শিল্পকলা একাডেমিতে আট বিভাগব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের পর্দা উঠল
স্টাফ রিপোর্টার: দৈনিক জীবনযাত্রা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও রংপুর—দেশের আটটি বিভাগজুড়ে বিস্তৃত ‘কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মাঠে সুর, তত্ত্ব ও বাণীর মিলনমেলার মধ্য দিয়ে এই মহোৎসব শুরু হয়।
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবীণ জননেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি। লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতীয় হাই কমিশনের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। উৎসবের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালন বিশ্বসংঘের নির্বাহী পরিচালক আবদেল মাননান।
ভাবাদর্শ নিয়ে আলোচনা ও আলোকপাত:
অনুষ্ঠানে মহাত্মা কবীর ও বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের আধ্যাত্মিক দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবমুক্তির সার্বজনীন বার্তা নিয়ে গভীর আলোচনা করেন আমন্ত্রিত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাধকগণ। এতে বক্তব্য ও আলোকপাত করেন:
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পরিচালক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট
অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, চেয়ারম্যান, সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মো. আহসানুল হাদী, অধ্যাপক, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফকির আবুল হোসেন শাহ্, প্রবীণ লালনপন্থী সাধক (চুয়াডাঙ্গা)
নিঝুম পাইনকা, কবীরপন্থী সাধক (শ্রীমঙ্গল)
ডা. এম কে রায়, গুরুদুয়ারা নানকশাহী (ঢাকা)
সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান, গবেষক ও চেয়ারম্যান, অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (কিশোরগঞ্জ)
বক্তারা বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং ভালোবাসার জয়গান গেয়ে গেছেন কবীর ও লালন। সমাজ থেকে হিংসা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ দূর করতে তাঁদের মানবতাবাদী ভাবদর্শন বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।
সুর ও বাণীর পরিবেশনা:
আলোচনা পর্ব শেষে একাডেমির মাঠে শুরু হয় মূল ভাবসংগীতের আসর। গভীর রাত পর্যন্ত মরমি সুরের মূর্ছনায় দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে সংগীত পরিবেশন করেন কবীরপন্থী সম্প্রদায়, রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়, নানকপন্থী সম্প্রদায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা। আয়োজকরা জানান, ঢাকার উদ্বোধনী আয়োজনের পর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি সাতটি বিভাগীয় শহরেও এই ভাবসংগীতের আসর অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী