জামায়াতকে আর ‘ইসলামী’ দল বলা যায় না: চরমোনাই পীর
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জীবনযাত্রা
কুষ্টিয়া:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আর ‘ইসলামী’ দল হিসেবে গণ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি দাবি করেন, জামায়াত নিজেদের দলীয় লোগো থেকে ‘আকিমুদদীন’ শব্দটি বাদ দিয়েছে এবং নির্বাচনী ইশতেহার কিংবা প্রকাশ্য বক্তব্যে শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করছে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদ্রাসায় আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে ‘আকিমুদদীন’ কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। ফলে তাদের দলীয় প্রতীকে ইসলাম সম্পর্কিত স্পষ্ট কোনো বক্তব্য আর দৃশ্যমান থাকছে না। নির্বাচনের ইশতেহারেও জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে—এমন কোনো সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব শরিয়াহ বিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার পরিবর্তে প্রচলিত রাষ্ট্রাচার ও আইনের মাধ্যমে দেশ শাসনের কথা বলছেন। এসব রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে দলটি ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শের মৌলিক অবস্থান হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় অতীতের ১১ দলের লংমার্চ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চরমোনাই পীর বলেন, “বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নাগরিক সংকটের দাবিতে দেশজুড়ে লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছিল। অথচ পরবর্তীতে সংসদে দলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, এসব সমস্যা বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। তাহলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের বিপুল তেল-গ্যাস ও সম্পদ পুড়িয়ে ওই লংমার্চ করার কী যৌক্তিকতা ছিল?”
একই সাথে ক্ষমতাসীন বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না দলটি।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে ওয়াদা করা হয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে কোনো প্রকার শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই ওয়াদা রক্ষা করা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে শরিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক আইন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
অনতিবিলম্বে সকল প্রকার শরিয়াহবিরোধী অবস্থান থেকে সরকারকে ফিরে আসার জোর আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন না করলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে কঠোর প্রতিবাদ ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
এস এম সোহাগ ফরাজী