কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন বিদিশা এরশাদ
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জীবনযাত্রা
ঢাকা:
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে জামিনের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে কারামুক্ত করা হয়।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের জামিননামার আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করা হয়। কোনো আইনি বাধা না থাকায় বিকেলে বিদিশাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আর্থিক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় বিদিশা সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নাম করে বাদীর সঙ্গে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি সম্পাদন করেন বিদিশা, তবে পরবর্তীতে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে চুক্তি অনুযায়ী অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ মে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার দিন বিদিশা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বিচারক। পরবর্তীতে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরদিন ২৬ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বিদিশার আইনজীবীরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। উচ্চ আদালতের সেই আদেশের কপি মঙ্গলবার কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছালে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন তিনি।
এস এম সোহাগ ফরাজী