কাউনিয়ায় মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক উধাও: প্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার: শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, দৈনিক জীবনযাত্রা
রংপুর:
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে আজিজুল ইসলাম নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তীব্র বাগ্বিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে কাউনিয়া উপজেলার ‘জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং’ প্রাঙ্গণে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে আজিজুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার পালিচড়া এলাকায়। ঘটনার পর রাতেই বিষয়টি অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে সহপাঠীদের মধ্যে প্রকাশ পায় এবং দ্রুতই তা ওই ছাত্রের অভিভাবকের কানে পৌঁছায়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে মাদ্রাসায় গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনরা মাদ্রাসায় যান। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত হন। ততক্ষণে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্তকে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা। একপর্যায়ে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁদের চরম বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরবর্তীতে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার বাবা এবং মাদ্রাসার দায়িত্বশীল শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার প্রাপ্তিসাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজুসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”