লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর: ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
জাতীয় ডেস্ক / ঢাকা: দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সকালে রাজধানীর রাজারবাগস্থ ‘বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়াম’-এ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন (এপ্রিল-জুন ২০২৬) শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।
অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের তালিকা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ ইউনিট ইতোমধ্যে দেশজুড়ে তৎপর রয়েছে। অভিযান আরও বেগবান করতে তথ্য সহায়তাকারীদের জন্য পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে:
ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস): উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার।
পিস্তল, রিভলবার ও শটগান: উদ্ধারে তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার।
সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস শেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম: উদ্ধারে খবর দিলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী তথ্যদাতাদের সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বাতিলকৃত লাইসেন্সের অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে ইতোমধ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তা
অপরাধ দমনে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, কমিশনার ও এসপি পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী
দৈনিক জীবনযাত্রা