গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে হামলায় আহত তৌফিকের মৃত্যু: মরদেহ পৌঁছাল গ্রামের বাড়িতে, এলাকায় শোকের মাতম
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও বেতন বাড়ানোর দাবিতে চলমান আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ পোশাক শ্রমিক তৌফিক শেখ (২১) মারা গেছেন।
ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাতে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে আসা হলে পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।
নিহত তৌফিক শেখ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
আন্দোলনে সংঘর্ষ ও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই:
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সম্প্রতি শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সেখানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটলে তৌফিক শেখ মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গ্রামের বাড়িতে মরদেহ, স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি:
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার রাতে তৌফিকের মরদেহ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পৌঁছান শোকার্ত স্বজনরা। অ্যাম্বুলেন্স থেকে মরদেহ নামানোর সাথে সাথেই মা-বাবা ও স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে ভিন জেলায় কারখানায় কাজ করতে যাওয়া তরুণের এই অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে রাতেই আশপাশের শত শত প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী তৌফিককে শেষবারের মতো একনজর দেখতে তাঁর বাড়িতে এসে ভিড় জমান। পুরো গ্রামজুড়ে এখন গভীর শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে। পরিবারটির একমাত্র ভরসাস্থল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া স্বজনরা এ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এস এম সোহাগ ফরাজী