বাউফলে বিয়ের ২ মাসের মাথায় নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: মৃত্যুর কারণ ঘিরে রহস্য
বাউফল (পটুয়াখালী) | দৈনিক জীবনযাত্রা:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে প্রশাসন।
গতকাল ১১ জুলাই (শনিবার) সকাল ১০টার দিকে বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দরবেশ আলী সড়কের একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান নিশি (২৮) নামের ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নিশি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা গ্রামের নাসির মোল্লার মেয়ে। তিনি বাউফল উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মনিরুল ইসলাম ঢালীর স্ত্রী বলে জানা গেছে।
পূর্বের বিয়েবিচ্ছেদ ও বর্তমান দাম্পত্য কলহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে প্রবাসী মনিরুল ইসলাম ঢালীর সঙ্গে ইসরাত জাহান নিশির বিয়ে হয়। তবে এটি মনিরুলের দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। এর আগে তাঁর আরেকটি বিয়ে হলেও পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে পূর্বের সেই সংসারের বিচ্ছেদ ঘটেছিল।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, বিয়ের পর থেকেই সম্প্রতি স্বামী মনিরুল ও স্ত্রী নিশির মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য ও কোন্দল চলছিল। গত শুক্রবার রাতে খাবার শেষ করার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হয়ে নিশি আলাদা একটি কক্ষে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে এবং শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ স্থানীয়রা ও স্বজনরা বাউফল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার ও পুলিশের পরিদর্শন
খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের (বৈদ্যুতিক পাখা) সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় নিশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) সশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ ও পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ঘটনার বিষয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম ঢালী বলেন, “রাতে সামান্য মনোমালিন্যের পর নিশি আলাদা কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। রাতে এবং সকালে বহুবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দিই।”
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো প্ররোচনা বা ভিন্ন কারণ রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে।”
এস এম সোহাগ ফরাজী