বিশ্বনাথে আদম ব্যবসার বিরোধে সংঘর্ষের মামলা: আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর, ৫ জন কারাগারে
শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী, সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে আদম ব্যবসার টাকা ও ভিসা প্রতারণাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় এজাহারনামীয় ৫ আসামিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সিলেট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত ও ৩ নম্বর আমলী আদালত বিশ্বনাথে ৬ আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক ৫ জনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে বয়সের দিক বিবেচনায় মখলিছ আলী (৬০) নামের এক আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— রিপন মিয়া (৪০), আব্দুস শহিদ (৪০), আব্দুর রহিম (৩৫), আব্দুল করিম (৪২) এবং মাছুম মিয়া (২৫)। মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি আব্দুল খালিক (৪০) এখনও পলাতক রয়েছেন।
ভিসা প্রতারণা ও সংঘর্ষের বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিশ্বনাথের শ্রীপুর গ্রামে আদম ব্যবসার পাওনা ও চলচাতুরীকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাদী আগন আলী এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামি রিপন মিয়া ও তার বোনজামাই তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে চার লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভারের ভিসায় সৌদি আরব পাঠান। কিন্তু সৌদি যাওয়ার পর কথা অনুযায়ী ড্রাইভিংয়ের কাজ না দিয়ে তাকে মানবেতর জীবনে ঠেলে দেওয়া হয়।
বিষয়টি সমাধানের জন্য বারবার তাগাদা দিলে আসামিরা ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা না দিয়ে তারা টালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে গত ১৫ জুন বিকেল ৪টার দিকে রামপাশা বাজারের কাছে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে গেলে ১ নম্বর আসামি আব্দুল খালিক ও ২ নম্বর আসামি রিপন মিয়ার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক বাদী, তাঁর ছেলে ও স্বজনদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
বিশ্বনাথ থানায় মামলা ও আদালত প্রাঙ্গণের চিত্র
সংঘর্ষের এই ঘটনায় আহতদের পক্ষে শ্রীপুর গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে মোঃ আগন আলী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা ও দাঙ্গা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং: জি/আর ৭৯/২৬)।
দীর্ঘ দেড় মাস পলাতক থাকার পর আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্যতম প্রধান আসামিসহ বাকিদের গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম সোহাগ ফরাজী।