‘সুন্দরী লো হুনিলা’ গানের সত্ত্ব নিয়ে দুই গীতিকারের বিরোধ, সরব ফেসবুক। সিলেট প্রতিনিধি। শাহ তোফাজ্জুল হোসেন ভান্ডারী। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান “সুন্দরী লো হুনিলা”–এর সত্ত্ব নিয়ে দুই গীতিকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুই পক্ষের সমর্থকরা নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। বিষয়টি নিয়ে জীবন যাত্রা পত্রিকার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার ও নিয়মিত শিল্পী বাউল জুয়েল আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, গানটির প্রকৃত রচয়িতা তিনি নিজেই। জুয়েল আহমদ বলেন, “প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে আমি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশন করে আসছি। শুধু আমি নই, সিলেটের অনেক বাউল শিল্পীও আমার নামেই গানটি গেয়ে আসছেন। আমার কাছে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “গানটি ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে পরিবেশনের পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করে আমার পাশের গ্রামের মো. খালেদ মিয়া গানটির সত্ত্ব দাবি করছেন। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রয়োজনে আমি আমার স্বত্ব রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হবো।” অন্যদিকে, গানটির সত্ত্ব দাবিদার মো. খালেদ মিয়া দাবি করেন, গানটির প্রকৃত রচয়িতা তিনিই। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, “গানটি আমি রচনা করেছি এবং জুয়েল আহমদকে গাওয়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার নাম উল্লেখ না করে নিজের নামে গানটি প্রচার করতে থাকেন। কিছুদিন আগে ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে গানটি জুয়েল আহমদের নামে প্রচার হতে দেখে আমি বিস্মিত হই। এরপর থেকেই আমি আমার গানের স্বত্ব নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি।”বর্তমানে ফেসবুকসহ সিলেট ও প্রবাসী অধ্যুষিত যুক্তরাজ্যের সংগীতাঙ্গনেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক শিল্পী, যন্ত্রশিল্পী ও শ্রোতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বাউল জুয়েল আহমদের পক্ষে মত প্রকাশ করছেন। সংগীতাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এক পক্ষ আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখালেও অপর পক্ষের অনাগ্রহের কারণে সমঝোতা প্রক্রিয়া এগোয়নি বলে জানা গেছে। ফলে জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান “সুন্দরী লো হুনিলা আমার কথা মানিলা, একবারতা তুই কইলা অয় কবুল”–এর প্রকৃত রচয়িতা কে—তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উল্লেখ্য, উভয় পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা ও আইনি মালিকানা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই বা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়নি।
দৈনিক জীবন যাএা