১১ বছরে বিয়ে, ১৩তেই মা: দুই মাস পর লিগ্যাল এইডের আইনি লড়াইয়ে সন্তানকে বুকে পেল কিশোরী
দৈনিক জীবনযাত্রা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টান, তারপর ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া। সেই ভুলের মাশুল গুণতে গিয়ে বাল্যবিয়ে ও অকাল মাতৃত্বের ট্র্যাজেডির শিকার হতে হলো মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে কোল খালি হয়েছিল তার। তবে অবশেষে ঢাকা লিগ্যাল এইড অফিসের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আইনি অধিকার ফিরে পেয়ে নিজের নাড়ীছেঁড়া ধনকে আবার কোলে তুলে নিতে পেরেছে এই কিশোরী মা।
প্রেমের ফ্রেমে বাল্যবিয়ে ও নির্মমতা
জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই বছর আগে এক তরুণের হাত ধরে বাড়ি ছাড়ে ওই কিশোরী। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর। তথাকথিত ‘বিয়ে’র পর গত জানুয়ারি মাসে তাদের কোলজুড়ে আসে এক কন্যাসন্তান/পুত্রসন্তান।
তবে সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আসল নির্মমতা। প্রেমিক তরুণ ও তার পরিবার এই কিশোরীকে আর মেনে নিতে রাজি হয়নি। উল্টো আমাদের সমাজের সেই পরিচিত নিষ্ঠুরতার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দুই মাস আগে দুধের শিশু সন্তানকে বুক থেকে কেড়ে নিয়ে ওই কিশোরী মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শ্বশুরপক্ষের লোকজন।
ঢাকা লিগ্যাল এইডের হস্তক্ষেপে কোল ফিরে পেল মা
বুকখালি হওয়া কিশোরী মা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ায় সরকারি আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ঢাকা লিগ্যাল এইড’। দীর্ঘ দুই মাসের আইনি লড়াই ও প্রশাসনের সহায়তায় অবশেষে আজ নিজের আদরের সন্তানকে নিজ বুকে টেনে নেওয়ার আইনি সুযোগ ও অধিকার পায় এই ছোট্ট মা।
যে বয়সে মা-বাবার আদরে পুতুল নিয়ে খেলার কথা, স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই সামাজিক অসচেতনতা ও বাল্যবিয়ের অভিশাপে নিজেই এক শিশুর মা হয়ে সন্তানকে আগলে রাখার এক করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি এই কিশোরী।
এস এম সোহাগ ফরাজী