বাঁশখালীতে ইসলামিক ফ্রন্টের ত্রাণ বিতরণ: দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | দৈনিক জীবনযাত্রা:
টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বন্যা দুর্গত এলাকায় পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের মাঝে ব্যাপক ত্রাণ সামগ্রী ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করেছে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। গতকাল ১১ জুলাই (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত ইউনিয়নে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে সহস্রাধিক পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরি জীবনরক্ষাকারী ঔষধ, নগদ টাকাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করতে একটি সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্সসহ পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল টিম সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব ও সশরীরে উপস্থিতি
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর মহাসচিব, প্রখ্যাত শায়খুল হাদিস অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর-এর নেতৃত্বে এই ত্রাণ টিম মাঠ পর্যায়ে সরাসরি কাজ করে। ত্রাণ টিমে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম ইব্রাহীম আখতারী, যুগ্ম মহাসচিব স ম হামেদ হোসাইন, ত্রাণ টিম প্রধান অধ্যাপক ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা এ এম মঈনউদ্দীন চৌধুরী হালিম এবং সহ-অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রচার সচিব অধ্যক্ষ আল্লামা হেলাল উদ্দীন আলকাদেরী, টিম সচিব এম কফিল উদ্দীন রানা, মাস্টার আনোয়ারুল আজিম, মাওলানা বশির আহমদ, মাওলানা শরিফ কাদেরী, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দীন জাহেদ, কাজী সোলতান আহমদ, মাওলানা সিরাজুল হক, এম আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ, আবুল ফয়েজ মামুন ও মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীনসহ কেন্দ্রীয়, জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীবৃন্দ।
বাঁশখালীকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণার দাবি
ত্রাণ বিতরণকালে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যক্ষ আল্লামা জয়নুল আবেদীন জুবাইর বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “টানা বৃষ্টি ও ঢলে বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন বানের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, ক্ষেত-খামার ও ফসলি জমি নষ্ট হয়ে মানুষ একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এখনো অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন—
“উদ্ভূত ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে বাঁশখালীকে সরকারিভাবে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পুনর্বাসনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।”
পাশাপাশি তিনি দেশের বিত্তবান শ্রেণী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহকেও স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এই চরম সংকটে বাঁশখালীর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর এই কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিম পরিচালনায় মাঠ পর্যায়ে সর্বাত্মক ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে সংগঠনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বাঁশখালী উপজেলা শাখা।
এস এম সোহাগ ফরাজী